বিশেষ পরিচিতিমূলক প্রতিবেদন:
পাহাড়ের কোল ঘেঁষে থাকা ভারতের সিকিম রাজ্য বলতেই চোখে ভাসে বৌদ্ধ স্তূপ, ওড়ার প্রার্থনা পতাকা আর হিন্দু মন্দিরের ছবি। তবে প্রকৃতির এই নয়নাভিরাম ক্যানভাসে নীরবে মিশে রয়েছে আরেকটি রঙিন অধ্যায়—সিকিমের মুসলিম সমাজ। ঐতিহ্যের বৈচিত্র্য আর পাহাড়ি জীবনধারার সাথে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তারা এখানে এক দৃষ্টান্তমূলক সম্প্রীতির উদাহরণ তৈরি করেছেন।
সিকিমে মুসলমানদের আগমন মূলত ব্যবসা-বাণিজ্য ও পেশাগত প্রয়োজনে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সুদূর লাদাখ, কাশ্মীর এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা ব্যবসায়ীরা প্রথম এই পাহাড়ি ভূখণ্ডে বসতি গড়তে শুরু করেন। তৎকালীন চোগিয়ালদের (সিকিমের রাজা) আমলে রাজপরিবারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে স্থানীয় মুসলিমরা বাণিজ্য প্রসারে ভূমিকা রাখেন। সিকিমের ইতিহাসে গ্যাংটকের প্রাচীন ব্যবসায়ী ‘সবিল সরদার’-এর অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়, যাঁর হাত ধরে পরবর্তীতে সমাজ কল্যাণমূলক নানা উদ্যোগ চালু হয়েছিল।
গ্যাংটকের কেন্দ্রীয় মসজিদ: রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত 'আঞ্জুমান ইসলামিয়া' মসজিদটি সিকিমের মুসলিমদের প্রধান প্রাণকেন্দ্র। পাহাড়ের ঢালে গড়ে ওঠা এই মসজিদ কেবল প্রার্থনার স্থানই নয়, বরং সামাজিক ঐক্য ও শিক্ষার মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
আঞ্চলিক উপাসনালয়: নামচি, রংপো ও ঝোরথাংয়ের মতো ছোট শহরগুলোতেও ছোট ছোট সুন্দর মসজিদ রয়েছে, যা স্থানীয় অধিবাসীদের প্রতিদিনের ধর্মীয় অনুভূতির আশ্রয়স্থল।
পাহাড়ি চ্যালেঞ্জিং জীবনের সাথে তাল মিলিয়ে সিকিমের মুসলিম সম্প্রদায় স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখছেন:
ব্যবসা ও হস্তশিল্প: গ্যাংটকের এমজি মার্গ (MG Marg) কিংবা লাল বাজারের মতো ব্যস্ত এলাকায় পোশাকের ব্যবসা, চশমা-ঘড়ির দোকান এবং চামড়ার সামগ্রীর বাজারে তাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে।
দর্জিশিল্পে বিশেষ দক্ষতা: শীতের পোশাক ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে জটিল সূচিকর্মের জন্য এখানকার মুসলিম কারিগরদের ঐতিহ্যগত সুনাম আছে।
পর্যটন সেবা: সিকিমের মূল চালিকাশক্তি পর্যটনে যানবাহন চালক, হোটেল কর্মী ও ট্রেকিং গাইড হিসেবেও বহু তরুণ নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করছেন।